লটকন আমাদের দেশী ফল। লটকন বাংলাদেশের সুপরিচিত কিন্তু অপ্রচলিত ফল। লটকন গাছঃ
বাংলা নামঃ লটকন/লটকা ইংরেজী নামঃ Burmese grape বৈজ্ঞানিক নামঃ Baccaurea ramiflora পরিবারঃ Phyllanthaceae লটকন ফলঃ 
অন্য যে নামঃ চট্টগ্রামে হাড়ফাটা, সিলেটবাসী বুবি আর ময়মনসিংহবাসী ডাকে কানাইজু নামে। এছাড়া লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান নামেও এটি পরিচিত। লটকনের কোয়াঃ
জাতঃ লটকনের স্থানীয় ও বন্য অনেক জাত থাকলেও অনুমোদিত জাত হল বারি লটকন-১। বারি লটকন-১’ জাতটি বাংলাদেশে চাষের জন্য ২০০৮ সালে অনুমোদন করা হয়। এটি একটি মাঝ মৌসুমী জাত। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে এর ফল পরিপক্কতা লাভ করে। এটি একটি নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। লটকনের এ জাতটি বাংলাদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী। সখের বসে হলেও কেউ লটকন চাষ করতে পারেন। 
যেখানে ভাল জন্মেঃ বুনো বুবি আজকে আমাদের অর্থকরী ফসল। উতপাদন হয় সিলেট, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাজীপুরসহ অন্যান্য জেলায়। ঝাঁকে ঝাঁকে লটকনঃ
সবশেষেঃ বেশি করে লটকন খান ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি এর চাহিদা মেটান। লটকন বিকিকিনিঃ 
বাংলা নামঃ পেয়ারা ইংরেজী নামঃ Guava বৈজ্ঞানিক নামঃ Psidium Guajava
পেয়ারা পছন্দ করেন না এমন মানুষ বোধ করি বাংলাদেশে নেই। কচকচ করে পেয়ারা খেতে কতটা মজার সেটা যারা না খান তারা বুঝতেই পারবেন না। পেয়ারা এমন একটি ফল যার পুষ্টিগুন অন্য অনেক বিদেশী ফলের চেয়ে বেশী। পেয়ারা বাগান:
পেয়ারা ফুল: 
বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই পেয়ারা জন্মালেও বানিজ্যিকভাবে চাষ হয় বরিশাল, ফিরোজপুর, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি প্রভৃতি এলাকায়।
জাতঃ বাংলাদেশে পেয়ারার অনেকগুলো ভাল জাত রয়েছে। স্থানীয় জাতের পেয়ারার জাতগুলো হলো-কাঞ্চন নগর (চট্টগ্রাম), মুকুন্দপুরী (বি-বাড়িয়া), স্বরুপকাঠি (পিরোজপুর, স্বরুরকাঠি, ঝালকাঠি)।
উচ্চ ফলনশীল জাতঃ -বারি উদ্ভাবিতঃ কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩ কাজী পেয়ারাঃ 
-বাউ উদ্ভাবিতঃ বাউ পেয়ারা-২ (রাঙ্গা),বাউ পেয়ারা-৩ (চৌধুরী),বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল)
-ইপসা উদ্ভাবিতঃ ইপসা পেয়ারা ১, ইপসা পেয়ারা ২ বিদেশী পেয়ারাঃ থাই পেয়ারা, পলি পেয়ারা, স্ট্রবেরী পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা ইত্যাদি। স্ট্রবেরী পেয়ারাঃ 

অনেক দিন পর ব্লগ লিখতে বসলাম। আমাদের চারদিকে অস্থিরতা--বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, হানাহানি, টাকার অবমূল্যায়ন, বান্দরবানে দূর্ঘটনায় নিহত মানুষ। লেখার অনেক বিষয়। আর আমি কিনা লিখতে বসলে লিখতে পারিনা, বিষয় আসে না। অনেক ক'দিন ধরে ভেবে দেখলাম বাংলাদেশের প্রচলিত ফল নিয়ে একটা সিরিজ লেখা যায়।আসুন তাহলে আজকে বাংলাদেশের বরই/কুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই আর ছবি দেখি। বাংলাদেশী রসালো কুলঃ
বাংলা নামঃ বরই বা কুল ইংরেজী নামঃ Jujube বৈজ্ঞানিক নামঃ Ziziphus mauritiana বাংলাদেশী রসালো কুলঃ
বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন জাতের নামঃ কুমিল্লাকুল, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলীকুল, সাতক্ষীরাকুল, রাজশাহীকুল, ঢাকা-৯০, বারিকুল ১ ও বারিকুল ২। কুল মাঠের পাশে বরই প্রক্রিয়াকরনঃ
বরই পছন্দ করেন না এরকম মানুষ কম আছে বাংলাদেশে। ২ ধরনের বরই আছে আমাদের দেশে। মিষ্টি বরই আর টক বরই। মানুষে মানুষে পছন্দেরও রকমফের দেখা যায়। আমরা অনেকেই সাধারনতঃ মিষ্টি কুল পছন্দ করলেও আমাদের মায়েদের কাছে বা মেয়েদের কাছে কিন্তু টক বরই বেশি প্রিয়। নাটোরে বাংলাদেশের সর্ববৃহত কুল আড়তে কুলঃ
যারা বরই চাষ করতে চান--অনেক বড় জায়গা হলে পছন্দমত যে কোনাটাই করতে পারেন। আপনার বাড়ির আশে-পাশের নার্সারী থেকে চারা কিনে লাগিয়ে দিন। ৪/৫ বছর পর থেকেই ফুল ধরতে শুরু করবে। আপনি ইচ্ছা করলে টবেও চারা লাগাতে পারেন। পাবনার আপেল কুলঃ
এই সময়ে জনপ্রিয় আর ভাল বরইয়ের জাতগুলো হচ্ছে--, বাউকুল, আপেলকুল, ঢাকা-৯০, বারিকুল ১ ও বারিকুল ২, কুমিল্লাকুল ইত্যাদি। বিদেশী কুলঃ দক্ষিন কোরিয়াতে দেখেছি 
(লেখা যদি ভাল লাগে তাহলে আগামীতে নতুন কোন ফল নিয়ে আপনাদের সামনে আসব। সামুতে ফলের বাগান করার ইচ্ছা আছে)
ঈদ আসন্ন। আমরা অনেকেই বাড়ি যাব বা যাচ্ছি। আমাদের অনেকেরই বেঁড়ে ওঠা গ্রামে। গ্রামের শীতল জলে হেসে-খেলে দিন কেটেছে। কত গাছ-গাছালির সাথে মিতালী ছিল সেই ছোটবেলায়। গাছে চড়ে বসে থাকতাম কতইনা। অনেক সুন্দর সুন্দর আবার অনেক নাম না জানা অচেনা ফলের সুবাস নিয়েছি। অনেক কিছুই ভুলে গেছি বা যাচ্ছি। আমার ইচ্ছা ছিল সামুতে ফল নিয়ে ধারাবাহিক লিখব। কয়েকটা লিখেছিও। কিন্তু সময় স্বল্পতা আর আলসেমীর কারনে হয়ে ওঠে না। দোষ আমারই। যারা নিয়মিত পড়ছিলেন তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই। আজকে যে ফলটি নিয়ে বলব সেটি আসলে ভীষণ অপরিচিত। অনেকেই হয়তঃ খেয়েছি কিন্তু নাম জানি না-আবার অনেকেই হয়তঃ দেখেননি জীবনে কখনো। হা আমি কাউফলের কথা বলছি।
বাংলা নামঃ কাউ (কুমিল্লা) /কাউয়া (সিলেট, মৌল্ভীবাজার) /কাউ-গোলা (চাকমারা বলে থাকে) /কাগলিচু/তাহগালা (মারমা)/ক্যাফল (বাগেরহাট)।ইংরেজী নামঃ Cowa (mangosteen)বৈজ্ঞানিক নামঃ Garcinia cowa
গাছটির রঙ একটু কালো। মাঝারী বৃক্ষ। যারা ঈদে গ্রামে যাচ্ছেন খেয়াল করে দেখবেন-বেশী মোটা নয়, গাছের রংটা কিছুটা কালো, ডালপালা একদম কম, গাছের আগার দিকে ঝুপড়ির মতো কিছু ডাল-পালা দেখা যায়। সাধারনতঃ হেলে থাকে না-খালের কিনারায়, পুকুরের কিনারায় থাওলে হেলে থাকে। জঙ্গলে বেশী দেখা যায়। দেখুননা ছবির সাথে মিলিয়ে চোখে পরে কিনা!!
এতো গেলো গাছের বর্নণা। এবার আসি ফলের বর্নণায়। ফলটি কাচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ। সাইজ একটা টেবিল টেনিস বলের (পিংপং) সমান থেকে সামান্য বড় হতে দেখা যায়। পাকা ফল হলুদ বা কমলা রঙ এর হয়। ফলের ভিতরে ৪/৫টি দানা থাকে। ফল পাকার পর এই দানা চুষে খেতে হয়।ফলটির স্বাদ টক—শুধু টক বললে ভুল হবে, অনেক বেশী টক। কিন্তু খেতে ভাল লাগে।
খাদ্য হিসেবে কাউফলঃছোটবেলায় আমার মা পাকা কাউফলের খোসা চির চির করে কেটে সাথে মোলা মাছ বা অন্য ছোট মাছ দিয়ে টক রান্না করতেন। কি যে ভাল লাগতো!! এখনো মুখে লেগে আছে। পরেরবার দেশে গেলে মা’কে বলব যেন আবারো এই টক রান্না করে দেন (আমাদের বাড়িতে ২টা কাউফল গাছ আছে কিনা)।
পাকা কাউফলের রসালো দানাগুলো খুলে নিয়ে মরিচের গুড়া, লবন, সামান্য দুধ, সামান্য চিনি দিয়ে ভর্তা করে খেতে খুব ভাল লাগে। আমি নিশ্চিত আপনাদের অনেকেরি মুখে পানি এসে গেছে--হেহেহেহেহেহে।ঔষধিগুনঃ সর্দিজ্বর ও ঠান্ডা প্রশমনে কাউফল উপকারী। এছাড়া এটি অরুচি দূর করে।
জাতঃ বাংলাদেশে কাউফলের অনুমোদিত কোন জাত নেই।
উতপাদন এলাকাঃসিলেট, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি আর রাঙ্গামাটিতে এই ফল হতে দেখা যায়। কুমিল্লা অঞ্চলেও আমি এ ফলটি হতে দেখেছি। বাগেরহাটেও প্রচুর হয়।
গাছটি বিলুপ্তপ্রায়। আজ থেকে ১০/১৫ বছর পরে হয়তঃ আমাদের দেশে আর দেখা যাবে না। তাই আপনারা যারা ঈদে দেশে যাচ্ছেন, কারো চোখে যদি ধরা পরে তাহলে দেরী না করে সংরক্ষনের ব্যাবস্থা করবেন। কাজটি কঠিন নয়। ভাল পাকা একটা ফলের বীজ রেখে দিন। কিছুদিন পর পাটিতে পুতে দিন। গাছ হয়ে যাবে।
তথ্য সুত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামার বাড়ি, ঢাকা; হর্টিকালচার এন্ড পোস্ট হারভেষ্ট টেকনোলজী বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; ইন্টারনেটছবি সুত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামার বাড়ি, ঢাকা; ফেসবুক; ইন্টারনেট